জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে (UNGA 81) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে পোডিয়ামের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সাধারণ পরিষদ কক্ষে তৈরি হয় এক অভূতপূর্ব প্রতিবাদী দৃশ্য। গাজা ও লেবাননে চলমান সামরিক হামলা এবং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের প্রতিবাদে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা একযোগে কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত অধিবেশন চলাকালে কয়েকশো বিশ্ব প্রতিনিধি আসন ছেড়ে বেরিয়ে গেলে মিলনায়তনের অধিকাংশ সারির আসনগুলো ফাঁকা হয়ে পড়ে।
কক্ষ ফাঁকা করে কূটনীতিকরা বেরিয়ে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলকে নেতানিয়াহুর সমর্থনে চিৎকার ও হাততালি দিতে দেখা যায়। প্রতিবাদীদের সমালোচনা করে পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহু তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “যাঁরা আমার বক্তব্যের সাথে একমত নন, তাঁদের কক্ষ ছেড়ে চলে যাওয়াই উচিত।” একই সাথে মিলনায়তনে অবস্থানরত বিরোধী পক্ষের অন্যান্য প্রতিনিধিদেরও বের হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গাজা উপত্যকা ও লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটি তীব্র বৈশ্বিক কূটনৈতিক চাপ ও সমালোচনার মুখে রয়েছে। জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ (Genocide) হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল, যদিও ইসরায়েল প্রতিবারের মতোই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার ঘটনা থেকে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এর জবাবে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩,৯২০ ছাড়িয়ে গেছে, যাদের সিংহভাগই নারী ও শিশু।

