মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল প্রতীক্ষিত শীর্ষ সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার মুহূর্তেই বাণিজ্য ফ্রন্টে একটি ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। দুই পরাশক্তির মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির (Trade Truce) মেয়াদ আরও বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছেছে ওয়াশিংটন ও বেইজিং।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) যৌথ সামরিক ঘাঁটি ‘জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ’-এর টারমাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন চীনা প্রতিপক্ষ শি জিনপিংকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও অভ্যর্থনা জানাচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের তথ্য নিশ্চিত করেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
নিয়ম অনুযায়ী, গত বছর কার্যকর হওয়া বিদ্যমান বাণিজ্য শুল্ক স্থগিতাদেশের মেয়াদের সময়সীমা চলতি বছরের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নতুন সমঝোতার ফলে এই শুল্ক বিরতি অন্তত আগামী বছরের ১০ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
এই চুক্তির আগে গত সপ্তাহান্তে নিউ ইয়র্কে এবং পরবর্তীতে বুধবার ওয়াশিংটনে চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী হে লিফেং-এর সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য ও অর্থ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের টানা নিবিড় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর দফায় দফায় অতিরিক্ত শুল্কারোপ করলে উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চরম হুমকির মুখে পড়ে। জবাবে চীন মার্কিন প্রযুক্তি খাতের জন্য অপরিহার্য বিরল খনিজ উপাদান (Rare Earth Minerals) রপ্তানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের ফলে তৈরি হওয়া সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) সংকট কাটাতে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্ববাজার বিশ্লেষকরা।

