বিশ্বের কোনো সামরিক শক্তি বা নিষেধাজ্ঞার কাছে ইরান কখনো মাথা নত করবে না বা আত্মসমর্পণ করবে না বলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে হুঙ্কার দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA 81) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ভাষণে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানান, তেহরান কখনো কোনো যুদ্ধের সূচনা করেনি এবং সবসময় আলোচনার টেবিলে কূটনীতির পথেই সমস্যার সমাধান চেয়েছে; তবে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটি কোনো আপস করবে না।
ভাষণে অত্যন্ত কৌশলগত আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই জলপথ ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানো বা সামরিক অস্ত্র পরিবহনের কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হলে এবং সামরিক চাপ বন্ধ করা হলে দ্রুততম সময়ে এই প্রণালি সার্বিক সমুদ্র বাণিজ্যের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব বলেও তিনি জানান। পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরান কোনো পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে না এবং করবে না; তবে চিকিৎসার কাজে ও জ্বালানি উৎপাদনে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার থেকে ইরানকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই।
ভাষণের এক পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ আখ্যা দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান পেজেশকিয়ান। তিনি মন্তব্য করেন—”ইরানের জনগণ সন্ত্রাসী নয়, বরং তারা নিজেরাই মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন ও সন্ত্রাসবাদের শিকার”।
ভাষণ চলাকালে তিনি মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সাম্প্রতিক হামলায় নিহত শিশুদের ছবি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন। পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য চলাকালে মার্কিন প্রতিনিধিদল জাতিসংঘের সভাকক্ষ ত্যাগ করে।

