ইরানের বিমান পরিবহন সংস্থার (এয়ারলাইন্স) ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ও সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া আরোপিত এমন সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বেইজিং।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন নিজ দেশের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র গুও জিয়াকুন স্পষ্ট ভাষায় বলেন: “চীন সবসময়ই এমন অবৈধ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার শক্ত বিরোধিতা করে এসেছে, যার কোনো আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি নেই এবং যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে গৃহীত হয়নি।”
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের কঠোর হুঁশিয়ারির মাত্র একদিন পরেই চীনের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এল।
এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সিএনবিসিকে (CNBC) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অর্থনৈতিক কৌশল ও নিষেধাজ্ঞার চাপে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে “বিশ্বজুড়ে সব ইরানি এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে।” তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ তৈরির অংশ হিসেবেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপে এগোচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের মূল কাঠামোর বাইরে গিয়ে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সংকুচিত করার মার্কিন চেষ্টা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়মকানুনের পরিপন্থী।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, আগামী বৃহস্পতিবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত শীর্ষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাণিজ্য নীতি, উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির নানা টানাপোড়েনের মধ্যে ইরানের এভিয়েশন ইস্যুতে বেইজিংয়ের এই কড়া বার্তা দুই নেতার আসন্ন বৈঠককে আরও স্পর্শকাতর ও উত্তপ্ত করে তুলল।

