আসন্ন ধর্মীয় উৎসব ও ইহুদি দিবসগুলোকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত নিজ নাগরিকদের জন্য উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা সতর্কতা (Travel Advisory) জারি করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনএসসি)। বৈশ্বিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে জারিকৃত এই নির্দেশনায় বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশে ইসরায়েলি নাগরিকদের ভ্রমণ ও অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট-এর বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এনএসসি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, উৎসবের মৌসুমে বিদেশ সফররত ইসরায়েলি ও ইহুদি জনগোষ্ঠীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সাথে ইসরায়েলের চলমান সামরিক সংঘাত এবং আফ্রিকা অঞ্চলে ইয়েমেনের হুতিদের ধারাবাহিক হুমকির কারণে এই নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, অক্টোবর মাসে ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ ও সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
এনএসসির প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্য ও ককেশাসের দেশগুলোকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আজারবাইজান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে উচ্চ ঝুঁকি এবং জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড ও মিসরকে ভ্রমণ এড়ানোর নির্দেশনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইরাক, ইরান, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন ও সৌদি আরবে ইসরায়েলি নাগরিকদের সফর আইনিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া ও সোমালিয়াকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের সাথে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই, তবুও এনএসসির সার্বিক বৈশ্বিক ঝুঁকি মূল্যায়নের তালিকায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত করা হয়েছে।

