নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে হিমবাহ ধস ও প্রলয়ঙ্করী বন্যা-ভূমিধসে ১,২৪৩ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর পর এক হৃদয়বিদারক সংকটে পড়েছে হিমালয়কন্যা নেপাল। সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ থাকায় কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের ইটের দেয়ালে টাঙানো শত শত ছবির সারিই এখন প্রিয়জনের খোঁজে আসা স্বজনদের শেষ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জরুরি উদ্ধারকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। হাসপাতালের দেয়ালজুড়ে শোভা পাচ্ছে নিখোঁজ শিশু, তরুণ ও বৃদ্ধদের রঙিন ছবি, পরিচয়পত্র, যোগাযোগের নম্বর এবং শনাক্তকরণের সুবিধার জন্য হাতের বিশেষ ট্যাটুর ক্লোজআপ। অনাকাঙ্ক্ষিত অনিশ্চয়তার মধ্যে অনেক স্বজন অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায় প্রতিদিন এই ছবির দেয়ালের সামনে ভিড় করছেন। অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে এখনো প্রায় ৯০০ মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে নেপালি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরও মরদেহ না পাওয়ায় কাঠমান্ডুর বাগমতী নদীর তীরে ঐতিহাসিক পশুপতিনাথ মন্দিরে রচিত হচ্ছে আরও করুণ দৃশ্যপট। স্বজনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে খড় দিয়ে প্রতীকী পুতুল (প্রতিকৃতি) তৈরি করে হিন্দু শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী চিতার আগুনে তা দাহ করছেন শোকার্ত পরিবারের সদস্যরা। দুর্যোগের পর নেপাল সরকার সার্বিক পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু ক্ষতিপূরণ (Climate Compensation) দাবির প্রস্তুতি নিলেও, প্রতিটি সাধারণ নেপালি পরিবারের ঘরে এখন শুধুই শোক আর অনিশ্চয়তার ছায়া।

