নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল, কাদার স্রোত ও ধারাবাহিক ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ১,২৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এই প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও অন্তত ৪,৫০০ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, হঠাৎ নেমে আসা কাদার স্রোত ও পাহাড়ি ধসে পুরো পাহাড়ি জনপদ ও বহু গ্রাম মাটির নিচে চাপা পড়েছে। প্রধান সড়ক ও মহাসড়ক ধ্বংস হওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকা এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়ায় দুর্গম পার্বত্য উপত্যকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপালি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশের ১০ হাজারেরও বেশি সদস্য প্রতিকূল আবহাওয়ার তোয়াক্কা না করে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের সহায়তায় ইতোমধ্যে চীন, ভারত ও আন্তর্জাতিক যৌথ রেসকিউ টিম ভারী যন্ত্রপাতিসহ অভিযানে অংশ নিয়েছে। বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন, যেখানে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এই নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জলবায়ু ক্ষতিপূরণ’ (Climate Compensation) দাবি করার জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে নেপাল সরকার।

