দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন। গত শনিবার লেবাননের নাবাতিয়ে জেলার ‘আনসার’ ও ‘দেইর আল-জাহরানি’ গ্রামে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুদেশের মধ্যে শান্তি কাঠামোয় সম্মত হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) নিশ্চিত করেছে যে, আনসার গ্রামে একটি বাড়িতে চালানো হামলায় তিন শিশু ও দুই নারীসহ সাতজন নিহত হন। অন্যদিকে দেইর আল-জাহরানি গ্রামে অপর একটি হামলায় প্রাণ হারান আরও চারজন। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ দফার সংঘর্ষে লেবাননে নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের বাহিনীর ওপর হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে রাতভর তারা তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ অভিযান পরিচালনা করে। হামলায় রাদওয়ান ফোর্সের কমান্ডার আলি সামির আল-হাজ হাসানসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ এই হামলার ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এবং প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক যৌথ ক্ষোভ প্রকাশে বলেন, নিহত নারী ও শিশুরা কোনোভাবেই সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না এবং এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করার একটি স্পষ্ট বার্তা।
হিজবুল্লাহর মিত্র ও লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের দ্রুত হস্তক্ষেপর আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণরূপে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত অঞ্চল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালেও, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে যে ইসরায়েলের স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি শান্তি চুক্তির শর্তাবলির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

