ভারতের হিমালয়ঘেঁষা উত্তরাখণ্ড রাজ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ভূমিধসের কারণে সুড়ঙ্গের ভেতর তীব্র বেগে পানি ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়লে অন্তত ৭ জন শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। দুর্ঘটনাকবলিত ‘তেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন’-এর প্রকল্প এলাকা থেকে ১৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, এখনো অন্তত ৩ জন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভেতরে নিখোঁজ রয়েছেন।
উত্তরাখণ্ডে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাত চলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা সুড়ঙ্গের প্লাবিত অংশে পৌঁছানোর জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অস্থায়ী ভেলা ব্যবহার করছেন। গত জুনে বার্ষিক মৌসুমি বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতজুড়ে বন্যা ও ভূমিধসে ইতোমধ্যে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
পরিবেশবিদদের মতে, হিমালয়ের মতো অত্যন্ত পরিবেশ-সংবেদনশীল অঞ্চলে অপরিকল্পিত ও অতিরিক্ত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে এই ধরনের প্রাকৃতিক ও অবকাঠামোগত বিপর্যয় বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। ভারতে বড় নির্মাণ প্রকল্পে সুরক্ষাব্যবস্থার ঘাটতির কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।
উল্লেখযোগ্য যে, গত মাসেই সিকিমে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে দুর্ঘটনায় ২০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ডেই আরেকটি সুড়ঙ্গ ধসে ৪১ জন শ্রমিক ১৭ দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে উদ্ধার পেয়েছিলেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের দুর্যোগের তীব্রতা আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

