যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে হঠাৎ করেই সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল একদিনে ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিন ট্রাফিক-এর তথ্যের বরাত দিয়ে দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ নিশ্চিত করেছে যে, গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এই প্রণালি দিয়ে মোট ১৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের (৯টি) তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
তবে একদিনে জাহাজ পারাপার বাড়লেও এই সংখ্যা যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনও বেশ কম। মূলত প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক রুটের নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অনড় অবস্থানের কারণেই প্রধান নৌপথগুলোতে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে গেছে।
মেরিন ট্রাফিকের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বর্তমানে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী অধিকাংশ নৌযানই ইরানের দেওয়া নির্ধারিত সামুদ্রিক রুট অনুসরণ করছে। এছাড়া দুই রুটেই চলাচলের তালিকায় একাধিক ‘শ্যাডো ভেসেল’ (পরিচয় গোপন রাখা জাহাজ) ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা জলযানের উপস্থিতি স্পষ্ট, যা মূলত আইনি জটিলতা ও যুদ্ধঝুঁকি এড়াতে এই বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছে।
একই দিনে লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও নতুন করে কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি এবং সেখানে ২৯টি জাহাজের পারাপার রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও একদিনের এই প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক শিপিং লাইনের জন্য সামান্য স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে, তবুও হরমুজ প্রণালি বন্ধের জেরে সৃষ্ট তেলের আকাশছোঁয়া বাজার এবং সামগ্রিক বাণিজ্যের এই মন্দাভাব মার্কিন-ইরান কূটনৈতিক সমঝোতা ছাড়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

