মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে যৌথ প্রতিরক্ষা জোরদারে এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (Makkah Joint Defence Agreement) নামে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তিটির মূল ভিত্তি অনুযায়ী—জোটভুক্ত যেকোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ করা হলে, তা বাকি দুই দেশের ওপরও আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রভাব: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ইরান ও তার মিত্রদের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও তেল রপ্তানি হুমকির মুখে পড়ে, যা দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তাবলয়ের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত মেলবন্ধন: পাকিস্তান বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৮,০০০ সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রেখেছে। অন্যদিকে তুরস্কের সাথে সৌদি আরবের ড্রোন চুক্তি রয়েছে। এই জোটের মাধ্যমে পাকিস্তানের সামরিক জনবল, তুরস্কের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং সৌদির অর্থনৈতিক শক্তির মেলবন্ধন ঘটতে যাচ্ছে।
আত্মরক্ষামূলক জোট: তুরস্কের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, এই চুক্তিটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং নির্দিষ্ট কোনো দেশকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়নি। ভবিষ্যতে অন্যান্য আঞ্চলিক রাষ্ট্রও এই জোটে যোগ দিতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের চরম অনিশ্চয়তার সময়ে মুসলিম বিশ্বের এই তিনটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ঐক্য একটি বড় ধরণের শক্তির ভারসাম্য তৈরি করবে।

