পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর দুই ছেলে—কাসিম খান ও সুলাইমান ঈসা খান। ইমরানের গ্রেপ্তারের তিন বছর পূর্তিতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁরা অভিযোগ করেন, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ সাত মাস ধরে তাঁদের বাবার সঙ্গে পরিবার, চিকিৎসক ও আইনজীবীদের দেখা করতে দিচ্ছে না।
এদিকে, সাবেক এই ক্রিকেট তারকা ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির মুক্তির দাবিতে বুধবার পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর হাজার হাজার কর্মী।
লন্ডন থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাসিম ও সুলাইমান জানান, বাবাকে দেখতে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তান সরকার আমলাতান্ত্রিক নানা জটিলতা তৈরি করছে এবং ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
কাসিম খান বলেন, “কর্তৃপক্ষ বাবার স্বাস্থ্যগত কোনো মেডিকেল রিপোর্ট আমাদের দেখাচ্ছে না। সাত মাস ধরে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ থাকায় আমাদের আশঙ্কা—কারাগারে হয়তো তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে।”
সুলাইমান আরও যোগ করেন যে, তাঁর বাবা অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দীদের কারাগারে রেখে নিজের মুক্তির জন্য কোনো রাজনৈতিক আপস বা চুক্তিতে যাবেন না।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে নিঃশর্তভাবে পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া এবং তাঁদের ‘বেআইনি নির্জন কারাবাস’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
কাসিম ও সুলাইমান উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তানের প্রায় ৩৫ কোটি মানুষের জনরায়কে অবজ্ঞা করে তাঁদের নির্বাচিত নেতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বন্দী রাখা হয়েছে। শুধু ছেলে হিসেবে নয়, বরং পুরো দেশের ভবিষ্যৎ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে বিশ্বের প্রভাবশালীদের পাকিস্তানের এই মানবাধিকার সংকটের দিকে জরুরি নজর দেওয়ার আকুল আবেদন জানান তাঁরা।

