মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন দুটি গ্যাস ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সুয়েজ খাল এবং এর সঙ্গে যুক্ত ‘সুমেদ’ (Sumed) পাইপলাইনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতে চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে সুয়েজ রুটটিই ছিল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ও নিরাপদ বিকল্প পথ। তবে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তার নতুন হুমকি: দামিয়েত্তা বন্দরে মার্কিন গ্যাস ট্যাংকারে আক্রমণের পর ভূমধ্যসাগর ও সুয়েজ খালের আশপাশের নৌপথ শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তেল সরবরাহে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা: পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এমএসটি মারকুই’-এর জ্বালানি গবেষণা প্রধান সল কাভোনিক সতর্ক করে জানিয়েছেন, হরমুজ এড়িয়ে সুয়েজ ও ভূমধ্যসাগরের দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করাও যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে, তবে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
ট্যাংকারের গতিপথ বদল: কেপলার (Kpler)-এর তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের নতুন হুমকি ও নিরাপত্তার স্বার্থে এশিয়ামুখী অনেক তেলবাহী জাহাজ এখন সুয়েজ ও লোহিত সাগর এড়িয়ে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ (কেপ অব গুড হোপ) ঘুরে যাতায়াত করছে। এর ফলে জাহাজের যাতায়াত খরচ ও সময় উভয়ই আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
পরিবহন সময় ও খরচ বৃদ্ধি: দক্ষিণমুখী বিকল্প রুটে যাতায়াতের সময় দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে তেল পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে সামগ্রিক শিপিং ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধি পাবে।
‘ওয়ার রিস্ক প্রিমিয়াম’ বা বাড়তি বিমা মাশুল: জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, মিসরে সম্প্রতি অবকাঠামোগত ঝুঁকির কারণে আন্তর্জাতিক বিমা কোম্পানিগুলো সুয়েজ খাল অতিক্রমকারী জাহাজের ওপর অতিরিক্ত ‘যুদ্ধ ঝুঁকি প্রিমিয়াম’ (War Risk Premium) আরোপ করতে পারে।
অবস্থান গোপন করার প্রবণতা: হামলা এড়াতে লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরে যাতায়াতকারী বেশ কিছু ট্যাংকার তাদের স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকার (AIS) বন্ধ রেখে চলাচল করছে, যা আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যে অস্বচ্ছতা ও ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
হামলার পরও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে তাৎক্ষণিক বড় লাফ দেখা না গেলেও, সুয়েজ খালের স্বাভাবিক চলাচল কোনো কারণে বিঘ্নিত হলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

