কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করায় ‘স্বল্প মেয়াদে’ মার্কিন নাগরিকেরাও যন্ত্রণার শিকার হতে পারেন বলে গতকাল রোববার মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগের দিন শনিবার দেশ তিনটির ওপর শুল্ক আরোপ করা নিয়ে পৃথক তিন নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি।
এই শুল্ক আরোপ করায় বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মন্দা ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদেরা। তাঁরা বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও পণ্যমূল্য বেড়ে যেতে পারে। এমন উদ্বেগের প্রভাব এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে পড়তে শুরু করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গতকাল ওই মন্তব্য করলেন।
ট্রাম্প শুল্ক আরোপ করায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে মার্কিনরাও ভুগতে পারেন, এমন সতর্কবার্তা দিলেও ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, আজ সোমবার কানাডা ও মেক্সিকোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।
ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত অবকাশযাপন কেন্দ্র মার-এ-লাগো থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল ওয়াশিংটনে ফেরেন। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি নাটকীয় কিছু আশা করি না। তারা আমাদের কাছে বড় অঙ্কের ঋণী, আর আমি নিশ্চিত যে তারা এ মূল্য পরিশোধ করতে যাচ্ছে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও শুল্ক আরোপের ঘটনা ‘অবশ্যই ঘটবে’। তবে কবে থেকে তা করা হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
যুক্তরাষ্ট্রে কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্য আমদানিতে ২৫ শতাংশ করে ও চীনের পণ্যে বর্তমান হারের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা সম্পর্কিত তিন নির্বাহী আদেশ গত শনিবার জারি করেছেন ট্রাম্প। এটি আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে।

