রয়টার্সের সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতি সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। আন্তর্জাতিক এআই প্রতিযোগিতার দ্রুত প্রসারের মুখে কীভাবে উন্নত বা ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআই মডেলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়টিতেই মূল আলোকপাত করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে এআই নিরাপত্তা নিয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকতে পারেন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।
যদিও প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতি মধ্যেই শুরু হয়েছে, তবে উভয় দেশের কর্মকর্তারা তাঁদের অভ্যন্তরীণ কৌশলগুলো চূড়ান্ত করতে থাকায় বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচি, স্থান এবং অংশগ্রহণকারীদের চূড়ান্ত তালিকা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
রয়টার্স জানায়, এআই প্রযুক্তির দ্রুতগতির বিকাশ নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিং—উভয় পক্ষই সমান উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, সাইবার যুদ্ধের হুমকি এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে দুই দেশই গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছে।
এআই নিরাপত্তার পাশাপাশি মেধা স্বত্ব (আইপি) রক্ষার বিষয়টিও এই বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। ট্রেজারি সেক্রেটারি বেসেন্ট মেধা স্বত্ব লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, মার্কিন শীর্ষস্থানীয় এআই মডেলগুলোর কিছু ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক চীনা সিস্টেমে শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, চীন রাজনৈতিক বাদানুবাদের চেয়ে সরাসরি কারিগরি বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় বেশি আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষক ও নীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি মাত্র বৈঠক দিয়ে সব জটিল ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সমাধান সম্ভব নয়। তবে ‘অ্যাডভান্সড ফ্রন্টিয়ার এআই মডেল’-এর মানদণ্ড নির্ধারণের মতো মৌলিক বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে এই সংলাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

