অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত ও ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুয়ো’ (iPhone Duo) বাজারে আসার পরপরই বড় ধরনের বিপত্তির মুখে পড়েছে। ফোনটি হাতে পাওয়ার পর বেশ কয়েকজন ক্রেতা ইনার স্ক্রিনের ভাঁজ বরাবর ফাটল ও অস্বাভাবিক দাগ দেখা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। গ্রাহকদের এই উদ্বেগের পর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল।
আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অ্যাপল জানিয়েছে, অল্প কিছু ডিভাইসে ডিসপ্লের এই সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং আক্রান্ত গ্রাহকদের বিনামূল্যে নতুন ফোন দিয়ে সহায়তা করা হবে।
রেকর্ড দর ও লঞ্চের সময়সীমা: প্রায় দুই দশকের মধ্যে আইফোনের ডিজাইনে এটিই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। গত ৯ সেপ্টেম্বর উন্মোচনের পর গত ১৬ অক্টোবর থেকে অনলাইন প্রি-অর্ডার শুরু হয় এবং ২৩ অক্টোবর নির্দিষ্ট কিছু বাজারে ডিভাইসটি ছাড়া হয়। আগামী ৩০ অক্টোবর আরও ২৮টি দেশে এটি উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাজ্যে ফোনটির প্রাথমিক দাম ১,৯৯৯ পাউন্ড (প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৮৩৫ টাকা) থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ কনফিগারেশনে ৩,১৯৯ পাউন্ড (৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৩৫ টাকা) পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্ক্রিন ফাটল ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা: ব্যবহারকারী জাস্টিন লোকোসসহ বেশ কয়েকজন ক্রেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রিনের ডানপাশে ও মাঝের ভাঁজে ফাটল এবং ফোন খোলার সময় ক্যাঁচক্যাঁচ বা মচমচ শব্দ হওয়ার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তবে কিছু ছবি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে।
জটিল হিঞ্জ ডিজাইন ও পূর্বের ইতিহাস: ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ইনার ডিসপ্লে যুক্ত এই ফোনে একটি অত্যন্ত জটিল হিঞ্জ বা কব্জা ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১৯ সালে স্যামসাংয়ের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন বাজারে আসার পর যেমন সমস্যার মুখে পড়েছিল, অ্যাপলও ফোল্ডেবল প্রযুক্তির এই প্রথম ধাপে একই ধরনের প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলো।
বাজার বিশ্লেষকের সতর্কতা: গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির (IDC) প্রযুক্তি বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো মন্তব্য করেছেন, “অ্যাপলের মতো সুসংহত সরবরাহ শৃঙ্খল ও কারিগরি সক্ষমতা থাকা প্রতিষ্ঠানও ফোল্ডেবল ফোন তৈরি করতে গিয়ে হোঁচট খেতে পারে। এই প্রাথমিক সমস্যাটি অ্যাপল কীভাবে সামাল দেয়, তার ওপরই ফোল্ডেবল বাজারের ভবিষ্যৎ আস্থাশীলতা নির্ভর করবে।”

