বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির বকেয়া ও নতুন ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তির তীব্র চাপের কারণে টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম অব্যাহতভাবে বাড়ছে। মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৮৭ পয়সায়—যা সোমবার ছিল ১২৩.৭৫ টাকা, রোববার ১২৩.৭৩ টাকা এবং এক সপ্তাহ আগে ছিল ১২৩.৪৫ টাকা।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধে বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে দেশের মোট আমদানি ব্যয় এক লাফেই ১২ শতাংশ বেড়ে ১২.২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার মধ্যে এককভাবে শুধু জ্বালানি পণ্য আমদানি ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ২.৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
ব্যাংক পর্যায়ে ডলারের দর: ইস্টার্ন ব্যাংক গতকাল প্রতি ডলারের বিক্রি হার ১২৩.৯৮ টাকা এবং ক্রয় হার ১২২.৯৮ টাকা নির্ধারণ করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক নগদ লেনদেনে ডলারের বিক্রেতা দর ১২৩.৯০ টাকা এবং ক্রেতা দর ১২২.৬৩ থেকে ১২২.৯০ টাকার মধ্যে বজায় রেখেছে।
মাসের শেষদিকের সরবরাহ সংকট: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলোতে ডলারের ক্রয়-বিক্রয়ের মোট পরিমাণ প্রায় সমান থাকলেও মাসের শেষদিকে আমদানিকারকদের এলসি বিল মেটানোর বাধ্যবাধকতা থাকে। একই সময়ে সাময়িকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ সামান্য ধীরগতির হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বল্পমেয়াদি অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। চলতি অক্টোবরের ১-২৪ তারিখ পর্যন্ত দেশে ২.১৩ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে (গত বছর একই সময়ে ছিল ২ বিলিয়ন ডলার)।
রিজার্ভের শক্তিশালী অবস্থান: বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে সাময়িক অস্থিরতা থাকলেও দেশের নিট রিজার্ভ নিয়ে উদ্বেগ নেই। আইএমএফের বিপিএম৬ (BPM6) হিসাব কাঠামো অনুযায়ী গত ১৯ অক্টোবর দেশের নিট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৫৪ বিলিয়ন ডলারে—যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৬.৩৪ বিলিয়ন ডলার।

