বাংলাদেশে বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ পুরোদমে চালু হলে দেশে ইন্টারনেটের দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হাকিম।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীতে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘সবার জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট: টেক জায়ান্টদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে বাধা ও সমাধান কোথায়?’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
আইএসপিএবি সভাপতি জানান, বর্তমানে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় ক্রয় করছে। বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল অপারেটররা সেবাদান শুরু করলে সাপ্লাই চেইনে একাধিক উৎস তৈরি হবে এবং সুস্থ প্রতিযোগিতা গড়ে উঠবে। ফলে আইএসপিগুলো আগের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে ব্যান্ডউইথ কেনাকাটা করতে পারবে, যার প্রত্যক্ষ সুফল পাবেন সাধারণ গ্রাহকরা।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে বর্তমানে ব্যান্ডউইথের চাহিদা প্রায় ১৩,৫০০ জিবিপিএস (Gbps), যা ২০৩০ সালের মধ্যে বেড়ে ৫০,০০০ থেকে ৫৪,০০০ জিবিপিএসে পৌঁছাতে পারে। এই বিপুল সম্ভাব্য চাহিদা মেটাতে রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (BSCPLC)-র একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে এসে বেসরকারি ক্যাবল অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক সংযোগ সহজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, ২০০৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিএসসিপিএলসি ৩,০০০ কোটি টাকার বেশি আয় এবং ১,৩৬২ কোটি টাকার নিট মুনাফা করলেও একচেটিয়া বাজারের কারণে সাধারণ ব্যবহারকারীরা সাশ্রয়ী মূল্যের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, গুগল, মেটা, আকামাই ও ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো টেক জায়ান্ট ও হাইপারস্কেলারদের বিনিয়োগ আকর্ষণে আন্তর্জাতিক ক্যাবল সীমাবদ্ধতা ও নীতিগত বাধা দূর করা জরুরি।
তবে বিএসসিপিএলসি ইতিপূর্বে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশে ব্যান্ডউইথ সংকটের কোনো ভিত্তি নেই এবং তাদের বর্তমান চাহিদার চেয়েও অনেক বেশি সরবরাহ সক্ষমতা রয়েছে।

