দক্ষিণ কোরিয়ার খ্যাতিমান নির্মাতা না হং-জিনের বহুল প্রতীক্ষিত বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক সারভাইভাল থ্রিলার ‘হোপ’ (Hope)। মুক্তির পরপরই কোরীয় বক্স অফিসে যেন ঝড় তুলেছে ছবিটি।
বক্স অফিস ট্র্যাকিং সংস্থা কোবিস-এর (KOBIS) সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ১৯ জুলাই সপ্তাহান্তে মোট আয় হওয়া বক্স অফিসের এককভাবে ৬৬.৬২ শতাংশ দখল করে নিয়েছে চলচ্চিত্রটি। মাত্র এই তিন দিনেই ছবিটি আয় করেছে ১ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার এবং প্রেক্ষাগৃহে টেনে এনেছে ১৫ লাখ ৪ হাজার ১৯ জন দর্শক। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ছবিটি মোট ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করেছে এবং দেখেছে ২১ লাখ ২৯ হাজার ৭২৩ জন দর্শক।
এক দশকের অপেক্ষার অবসান
কোরীয় চলচ্চিত্রে রহস্য, সহিংসতা ও তীব্র মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনার আবহ তৈরিতে না হং-জিনের জোড়া মেলা ভার। ‘দ্য চেজার’, ‘দ্য ইয়েলো সি’ এবং ‘দ্য ওয়েইলিং’-এর মতো ব্যবসাসফল ও প্রশংসিত চলচ্চিত্রের পর দীর্ঘ এক দশক নতুন কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি পরিচালনা করেননি তিনি। ২০১৬ সালের পর ‘হোপ’-এর মাধ্যমেই দীর্ঘ খরা কাটালেন এই মাস্টারমেকার।
আন্তর্জাতিক তারকাদের সমাবেশ
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছবিটির ব্যাপক কৌতূহলের অন্যতম বড় কারণ এর তারকা বহর। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ তারকা হোয়াং জং-মিন, জো ইন-সাং এবং ‘স্কুইড গেম’ খ্যাত জং হো-ইয়নের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন আন্তর্জাতিক হলিউড তারকারা—যার মধ্যে রয়েছেন মাইকেল ফাসবেন্ডার, অ্যালিসিয়া ভিকান্দর, টেলর রাসেল ও ক্যামেরন ব্রিটন।
কান উৎসব থেকে নিউ ইয়র্ক: বিশ্বজুড়ে প্রশংসার জোয়ার
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই বৈশ্বিক মঞ্চে দারুণ সাড়া ফেলেছে ‘হোপ’। গত মে মাসে বিখ্যাত কান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে এটি প্রদর্শিত হয়। এরপর নিউ ইয়র্ক এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও এটি ‘সেন্টারপিস চলচ্চিত্র’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল।
উত্তর আমেরিকায় ছবিটি পরিবেশনের দায়িত্ব নিয়েছে প্রখ্যাত স্বাধীন চলচ্চিত্র পরিবেশক সংস্থা ‘নিওন’ (NEON)। উল্লেখ্য, ‘প্যারাসাইট’, ‘অ্যানাটমি অব আ ফল’ কিংবা ‘আনোরা’-র মতো আন্তর্জাতিক অস্কারজয়ী চলচ্চিত্রগুলো উত্তর আমেরিকায় বাজারজাত করে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছে সংস্থাটি।

