আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মধ্যেই বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারেজ (Padma Barrage) প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ইতোমধ্যে প্রকল্পের জন্য সাইট পরিদর্শনসহ কারিগরি রূপরেখা চূড়ান্তকরণের প্রাথমিক ধাপ শেষ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর বিআইআইএসএস (BIISS) মিলনায়তনে ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুনভাবে ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব তথ্যের অনুমোদন দেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রীর বক্তব্য ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মূল দিকসমূহ:
পদ্মা ব্যারেজের দৃশ্যমান রূপরেখা (২০২৭): মন্ত্রী জানান, পদ্মা নদীর শুষ্ক মৌসুমের পানিশূন্যতা মোকাবিলা এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসের মধ্যেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ সাধারণ মানুষের চোখে দৃশ্যমান হবে।
১২ ডিসেম্বর ২০২৬ গঙ্গা চুক্তির মেয়াদপূর্তি: ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, যৌথ নদী কমিশনের (JRC) আওতায় ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ টেকনিক্যাল টিম চুক্তি নবায়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত মেয়াদের আগেই নতুন চুক্তি স্বাক্ষরে দুই দেশ আশাবাদী।
১৯৭৭ সালের ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফেরানোর জোর তাগিদ: বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ১৯৭৭ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মতো একটি ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ (Guarantee Clause) নতুন চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা, যা শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা পয়েন্টে পানির প্রবাহ যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানির নিশ্চয়তা দেয়।
পদ্মা-তিস্তা পাড়ের মানুষের স্বার্থ সুরক্ষা: মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, “পদ্মা ও তিস্তা নদীর পাড়ে যারা আছেন, তারা আমাদের মানুষ। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে আমাদের দেশের মানুষের চাপ ও জাতীয় স্বার্থই সবচেয়ে বড় চাপ। সেই স্বার্থকে ধারণ করেই আমরা আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছি।”

