চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার হ্যান্ডলিং স্থাপনা নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের নীতিগত প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি ঘটেছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পেশ করা ১৫ বছর মেয়াদি খসড়া কনসেশন চুক্তি অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণী অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
অনুমোদিত এই চুক্তির আওতায় এনসিটির ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডও (ওসিওয়াই) বিদেশি অপারেটরের পরিচালন এক্তিয়ারে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই এনসিটিতে অবস্থিত। ২০০৭ সালে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালে মোট ৫টি জেটি রয়েছে।
প্রক্রিয়ার পটভূমি: ২০১৯ সালে এনসিটিতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৩ সালের মার্চে সরকারি অনুমোদন পেলেও শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধর্মঘটের কারণে চলতি বছরের ফেব্রমাসের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়।
নতুন দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ: এপ্রিলে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ৪র্থ যৌথ বাংলাদেশ-দুবাই পিপিপি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় সুনির্দিষ্ট আলোচনা ত্বরান্বিত হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের জুনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের সহায়তা কমিটি গঠন করে। বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত ‘চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড’ টার্মিনালটি পরিচালনা করছে।
সরকারের এই খসড়া চুক্তি অনুমোদনের পরপরই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম খোকন এক যৌথ বিবৃতিতে নিম্নোক্ত শঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন:
আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরে মোট ৩৫ লাখ টিইইউএস (TEUs) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যার ৪০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয় এনসিটিতে। একই সময়ে টার্মিনালটি থেকে প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব এবং ২,৫০০ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে। হস্তান্তরের ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
নিরাপত্তা ও বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি: দুবাইভিত্তিক বহুজাতিক টার্মিনাল অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড (DP World)-এর হাতে অপারেশন তুলে দিলে দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার বহিঃপ্রবাহ বাড়বে এবং বন্দর শ্রমিকদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।
সরঞ্জামের মান নিয়ে বিভ্রান্তি: এনসিটির আধুনিক সরঞ্জাম পুরোনো দাবি করাকে তারা হস্তান্তরের পথ সুগম করার অজুহাত হিসেবে আখ্যা দেন এবং সরকারকে চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানান।

