বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সরবরাহ সংকটে জনগণের সাময়িক দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে গভীর দুঃখ ও অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে সংসদে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতি ও অতিরিক্ত গ্যাসনির্ভরতার কারণেই আজকের এই সংকট তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট, যা আমদানি করা প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি করেছে।
তিনি জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট ক্ষমতা ১২,০০০ মেগাওয়াট, যার জন্য দৈনিক ১,৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু গৃহস্থালি ও শিল্পখাতে ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে বর্তমানে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট এবং মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকা এবং ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে চুক্তির চেয়ে কম (১৬০০ মেগাওয়াটের স্থলে ৯০০-১১০০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ পাওয়ার কারণে গ্রিডে ঘাটতি বৃদ্ধি পায়। গত ২১ জুলাই এফএসআরইউ (FSRU) টার্মিনালের ত্রুটি সারিয়ে বর্তমানে সংকটের ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। আগামী গ্রীষ্মের সংকট মোকাবেলায় ব্যাটারি ব্যাকআপসহ রুফটপ সোলার (Rooftop Solar) নীতি চালুর মতো দীর্ঘমেযাদী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

