জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ ও সংঘাতের পথ পরিহার করে সমঝোতামূলক, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে (UNGA 81) প্রদত্ত রাষ্ট্রনায়কসুলভ ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানান, মারণাস্ত্র নয়; বরং আধুনিক বিশ্বের পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হওয়া উচিত যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ কক্ষে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, ফিলিস্তিন ইস্যু, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের রোডম্যাপ তুলে ধরেন।
বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিন ও ১২ লাখ রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান
ভাষণের শুরুতেই সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং বিদায়ী সভাপতি ম্যাডাম এনালেনা বেয়ারবককে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্ব অর্থনীতি ও সংঘাত: প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি তীব্র চাপে পড়েছে। জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি নিরসনে সামরিক উত্তেজনার বদলে কূটনীতিই একমাত্র পথ।
ফিলিস্তিন ইস্যু: ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের অসংকোচ ও অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন: দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে ১২ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি, সম্পদ ও নিরাপত্তার ওপর সৃষ্ট চরম চাপের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে, তাই সমাধানও সেখানে।” রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপের তাগিদ দেন তিনি।
দেড় দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক শাসনের অবসানের পর মুক্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্গঠনে সরকারের ‘থ্রি-আর’ কৌশল (Recovery, Restoration, & Reconstruction) তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশকে একটি আন্তর্জাতিক ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে উন্নয়ন সহযোগীদের বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের উদ্ভাবনী স্টার্টআপ বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলারের বিশেষ বাজেট বরাদ্দ রাখার ঘোষণা দেন তারেক রহমান।

