জুলাই বিপ্লব পরবর্তী রাষ্ট্রীয় সংস্কার কাঠামোর মূল দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে, হুবহু সেভাবেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই সনদ বাস্তবায়নে খুব শিগগিরই জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হবে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “জুলাই সনদের বাইরেও আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব ছিল, যেগুলোর পক্ষে জনগণ ভোট দিয়েছেন। সেসব জনআকাঙ্ক্ষাও সংবিধান সংশোধনে ধারণ করা হবে। তবে একপাক্ষিকভাবে সংবিধান সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই।” এদিনের বৈঠকে দেশের ১৭টি নিবন্ধিত ও সক্রিয় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উচ্চকক্ষের রূপরেখা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সাধারণত ফেডারেল বা প্রাদেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা দেখা যায়। আমাদের এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে আগে এর প্রয়োজনীয়তা সেভাবে অনুভূত না হলেও, পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উচ্চকক্ষ গঠনে কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র ও সমাজের প্রথিতযশা ও মেধাবী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে উচ্চকক্ষ পরিষদের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা আমাদের ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রতিফলিত হয়েছে।”
উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সুষ্ঠু ও সময়মত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দেশে আর্থিক বছরের সময়সূচি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। বর্তমানে প্রচলিত ১ জুলাই – ৩০ জুনের পরিবর্তে ১ এপ্রিল থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত নতুন অর্থবছর নির্ধারণের প্রস্তাব আনা হবে।
বিএনপিকে নিয়ে গঠিত কিছু অভিযোগ খণ্ডন করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বিএনপি সংখ্যাধিক্যের সুযোগ নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন থেকে সরে আসতে চায়—এমন দাবির কোনো ভিত্তি নেই। যারা এখনো সনদে স্বাক্ষর করেনি, আলোচনার পথ তাদের জন্যও খোলা। আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ও আলোচনা শেষ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”

