যশোরের বেনাপোল সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে আত্মগোপনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সীমান্ত অতিক্রমের আগেই যশোর সদরে বসানো পুলিশি চেকপোস্টে সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্ত পারাপারের জন্য এক দালালের সঙ্গে তার ২০ হাজার ভারতীয় রুপির চুক্তি হয়েছিল।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে যশোর কোতোয়ালি থানা এলাকার ঝুমঝুমপাড়া থেকে ইমনসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত অপর তিন সহযোগী হলেন—আল ইসলাম আলিফ তমাল (২৫), মো. শামীম (২৮) এবং মো. সাফায়েত হোসেন।
অভিযানের বিষয়ে যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. মিরাজুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের নির্দিষ্ট ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে থানা ও ডিবি পুলিশের মোট ৯টি টিম যৌথ অভিযান চালিয়ে একটি কালো রঙের হোন্ডা সিআর-ভি (এসইউভি) গাড়ি থেকে তাদের আটক করে। পরবর্তীতে ছবি ও তথ্যাদি যাচাই করে ইমনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে ইমন ও তার দল ‘ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৫-৩৫৯০’ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের একটি এসইউভি ব্যবহার করছিলেন। গাড়িটির মূল মালিক রাজধানীর বনানীর ‘হোপ টেক্সটাইলের’ স্বত্বাধিকারী মো. আউয়াল হোসেন। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া তিন সহযোগীর একজন ওই গাড়ি মালিকের ভাতিজা।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে ইমন নিজেকে ‘মিরাজ’ নামে পরিচয় দেন এবং স্থায়ী ঠিকানা ঢাকায় বলে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমুল হক বিকেলে সাংবাদিকদের জানান:
“পুলিশি অভিযানের মুখে ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তার কাছে একটি বিদেশি পাসপোর্টসহ মোট দুটি পাসপোর্ট রয়েছে এবং সে প্রায়ই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাতায়াত করত। তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডেভিড ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরে। সে ভারতের ভারতে পলাতক চট্টগ্রামের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে অপরাধ জগৎ পরিচালনা করে আসছিল।
পূর্বে এই গ্রুপের নেতৃত্বে থাকা ‘ছোট সাজ্জাদ’ ওরফে সাজ্জাদ হোসেন বর্তমানে কারাগারে থাকায় ইমন ও তার সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান আলম যৌথভাবে চট্টগ্রাম শহর, রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছিল।
তদন্তকারীরা জানান, ইমন ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে অতি সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বড় ধরণের সশস্ত্র হামলা ও চাঁদাবাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে:
ডিডিএন অফিসে হামলা: গত ১৩ জুলাই চন্দনপুরা-বাকলিয়া অ্যাক্সেস রোডে ‘ডিজিটাল ডট নেট’ (ডিডিএন) নামের একটি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে ডেভিড ইমনের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
২ কোটি টাকার চাঁদা দাবি: উক্ত হামলার দুদিন আগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুনের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ বলে পরিচয় দেয়।
শিল্পপতির বাসভবনে গুলি: শিল্পগোষ্ঠী ‘স্মার্ট গ্রুপের’ পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসভবন লক্ষ্য করে গত ২ জানুয়ারি এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশি পাহারার মধ্যেই একাধিকবার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, যার পেছনেও ইমনের হাত ছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) অক্সিজেন-কুয়াইশ এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ ইমনের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছিল।

