দেশে প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক ও শাখাবিহীন ব্যাংকিং সেবা প্রসারে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত ৫টি ডিজিটাল ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ (LoI) বা প্রাথমিক সম্মতিপত্র প্রদান করেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক—বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পর্ষদ সভায় এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
সম্মতিপত্র পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো এখন অনলাইনে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার প্রাথমিক অবকাঠামোগত প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
ডিকে ডিজিটাল ব্যাংক লিমিটেড: ভুটানের ডিকে ব্যাংকের (DK Bank) বৈদেশিক অর্থায়নে গঠিত।
বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক: দেশের শীর্ষ মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের উদ্যোগ।
নোভা ডিজিটাল ব্যাংক: টেলিকম অপারেটর বাংলালিংকের উদ্যোগ।
বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক: টেলিকম অপারেটর রবি আজিয়াটার প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংক।
কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক: টেকনোহাভেনের প্রধান নির্বাহী হাবিবুল্লাহ এন করিমের প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকিং উদ্যোগ।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ (LoI) প্রদান করা মানেই চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া নয়। এর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর পূর্বে যেসকল কারিগরি অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যাংকিং প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে হবে—তার প্রাথমিক বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়।
পরিশোধিত মূলধন: ১৪ জুন ২০২৩-এ জারি করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হতে হবে ৩০০ কোটি টাকা।
শাখাবিহীন মডেল: এসব ব্যাংকের দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শাখা কার্যালয় থাকবে না। শুধুমাত্র একটি প্রধান কার্যালয় থাকবে এবং যাবতীয় সেবা মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
এর আগে প্রথম দফায় ৫২টি আবেদন জমা পড়ার পর ২০২৩ সালের অক্টোবরে ‘নগদ ডিজিটাল ব্যাংক’ ও ‘কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক’কে সম্মতিপত্র দেওয়া হয়েছিল (যার মধ্যে পরবর্তীতে নগদের লাইসেন্স পুনর্বিবেচনার অধীনে নেওয়া হয়)। দ্বিতীয় দফায় ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১২টি প্রতিষ্ঠান তাদের আবেদনপত্র জমা দেয়, যা যাচাই-বাছাই শেষে এই ৫টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক সম্মতিপত্র দেওয়া হলো।

