২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত গত তিন বছরে দেশে অন্তত ৪০২টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্ডারের ঘাটতি এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সংকটের কারণে কারখানাগুলো তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য রুহুল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই তথ্য তুলে ধরেন। তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর গত ২২ জুনের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে ২৮২টি বিজিএমইএ (BGMEA) এবং ১২০টি বিকেএমইএ (BKMEA)-এর নিবন্ধিত সদস্য ছিল।
সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাপী করোনা উত্তর পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, ইরান কেন্দ্রিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক মূল্যস্ফীতি ও বিশ্বমন্দার কারণে বৈশ্বিক অর্ডার হ্রাস পায়। পাশাপাশি দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থপাচারের ফলে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এবং বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়া কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ। তবে পোশাক খাতের পুনর্জাগরণে কাস্টমস বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের বিকল্প হিসেবে ১.৫ শতাংশ নগদ সহায়তা, ইউরোজোনে অতিরিক্ত ০.৫০ শতাংশ সুবিধা, ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের জন্য ৩ শতাংশ বোনাস এবং পোশাক খাতে ০.৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তাসহ নানা সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত রয়েছে বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেন।

