ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার করে দেশকে বিভক্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে সনাতন ধর্মের নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বিগত ১৫ বছরে দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে এখন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
“আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাব। অবশ্যই আমরা আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে সামনে রেখে, আমাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে সঙ্গে রেখে, চব্বিশকে সামনে রেখে এগিয়ে যাব। আমরা কোনোটাকেই বাদ দিতে চাই না।”
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা কখনোই বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না। একইসঙ্গে ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকেও অস্বীকার করার উপায় নেই, কারণ অগণিত সন্তান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রাণ দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিতাড়িত করেছে।
বাংলাদেশকে একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন:
উগ্রবাদকে প্রশ্রয় নয়: দেশে কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
ধর্মীয় বিভাজন প্রতিরোধ: একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মের নামে দেশে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সবসময় পাশে থাকবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য তৈরি হতে দেবে না।
নির্বাচনে সনাতন ধর্মের মানুষ বিএনপিকে যে সমর্থন ও ভালোবাসা দিয়েছেন, সে জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি ভবিষ্যতে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

