দেশে ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমঅধিকার, মর্যাদা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ব্যক্ত করেন, ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিক পরিচয়ই রাষ্ট্রের প্রধান ভিত্তি এবং একজন নাগরিক হিসেবে যার যে প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তার পবিত্র দায়িত্ব।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন মন্দির প্রতিনিধি মণ্ডলীর সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা বিধান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আল্লাহ তাআলা আমাকে দেশের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব—কোনো ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ ও দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেককে ক্ষমতার মধ্যে নিরাপত্তা ও অধিকার দিতে।”
গণসংগ্রামের যৌথ ঐতিহ্য: তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার বাবা জিয়াউর রহমান অংশ নিয়েছিলেন এবং সেই স্বাধীনতাসংগ্রামে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। দেশের ক্রান্তিলগ্নে যেখানে ধর্ম বিচার্য ছিল না, সেখানে অন্য ক্ষেত্রে ধর্মীয় বৈষম্যের সুযোগ নেই।
ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই ও পূজার শুভেচ্ছা: বিগত ফ্যাসিবাদের শাসনামলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী মত দমনে মুসলমান ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের কর্মীরাই একইভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। সভায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের ৮টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণ জানান। পূজার ছুটি বৃদ্ধি এবং অনুদান বাড়ানোর সিদ্ধান্তে নেতৃবৃন্দ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।

