বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ সিস্টেমিক রিস্ক রিপোর্ট (জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৫)’-এর তথ্য অনুযায়ী, সরকারের বাৎসরিক রাজস্ব আহরণের ক্ষমতার তুলনায় পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় আয় ও দেনার মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক উল্লেখ করেছে যে, জিডিপির তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাত কিছুটা বাড়লেও, রাজস্ব আয়ের বিপরীতে ঋণের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতীয় রাজস্বের তুলনায় ঋণের সংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ার ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) উভয় সংস্থাই সতর্ক করেছে যে, রাজস্ব আয়ের মন্দা ও অভ্যন্তরীণ ঋণের ক্রমাগত বৃদ্ধি দেশের দীর্ঘমেয়াদী ঋণ পরিশোধ ক্ষমতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের সম্পূর্ণ সময় জুড়ে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় খাতের মোট ঋণ সরকারের বাৎসরিক মোট রাজস্ব আয়ের চেয়ে বহু গুণে বেশি ছিল। রাজস্ব আয়ের বিপরীতে উচ্চ ঋণের এই অনুপাত স্পষ্ট করে দেয় যে, সংগৃহীত রাজস্ব আয়ের বড় একটি অংশই চলে যাচ্ছে পুরোনো ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে।
আয়ের এই ঘাটতির মধ্যেই রাজস্ব আদায়ের পারফরম্যান্স আরও নিম্নমুখী হয়েছে। আইএমএফের সর্বশেষ ‘ঋণ স্থায়িত্ব বিশ্লেষণ’ (Debt Sustainability Analysis) অনুসারে, ২০২৫ অর্থবছরে কর সংগ্রহ কমে জিডিপির ৬.৮ শতাংশে নেমে এসেছে (যেটি ২০২৪ অর্থবছরে ছিল ৭.৪ শতাংশ)। আইএমএফ এই পতনের জন্য করের ছোট পরিধি, করদাতাদের অসচেতনতা ও কর প্রশাসনের দীর্ঘদিনের দুর্বলতাকে দায়ী করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে যে, বাজেটের ঘাটতি মেটাতে কেবল অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাতের ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করলে তা ভবিষ্যতের উন্নয়ন মূলক ব্যয়ের সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করবে।

