ভবিষ্যতে দেশের শিল্পখাতে আকস্মিক গ্যাস সংকট নিরসনে সরকার বৃহদাকার মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সংকটকালীন সময়ে জাতীয় অর্থনীতি ও শিল্পখাত যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য গভীর সমুদ্রে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) নির্মাণসহ একাধিক সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন তিনি।
অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে, যেখানে রপ্তানিমুখী ইপিজেড এবং বিসিক শিল্পাঞ্চলকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। একই সাথে দীর্ঘমেয়াদে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তিকে রূপান্তরের প্রধান খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ২০৩০ সালের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে একটি বিশেষ সুবিধা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেসব গ্রাহক নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন।
প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনার বিষয়ে সংসদ নেতা উল্লেখ করেন, সরকারি প্রকল্পের মেয়াদ ও বাজেট অহেতুক বৃদ্ধি বন্ধে প্রাক-বাস্তবায়ন সমীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ আমলের বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পের অতিরঞ্জিত ব্যয় ও দুর্নীতির চলমান তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত শ্বেতপত্রের ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার, যার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের অতিরিক্ত ব্যয় কাটছাঁট করে জনস্বার্থ নিশ্চিত করা হয়েছে।

