বিমসটেকের (BIMSTEC) বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ পর্বে অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বাংলাদেশ সম্মেলনে যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র সূত্রে জানা গেছে, সফরসূচি ও অন্যান্য রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এর আগে গত ২৩ জুলাই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম নিশ্চিত করেন যে, ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নামে পাঠানো কূটনৈতিক পত্রটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
আমন্ত্রণের প্রেক্ষাপট ও কূটনৈতিক যোগাযোগ
ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র জানায়, গত ১৪ জুলাই ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়। পত্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের প্রধান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে আগামী ১২–১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস আউটরিচ সেশনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর আন্তর্জাতিক মঞ্চ ‘ব্রিকস’-এর আউটরিচ পর্বে সাধারণত সদস্য নয়—এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটের শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বর্তমানে ব্রিকসের সদস্যদেশগুলো হলো: ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়া।
ব্রিকস আউটরিচ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
সদস্যপদের দীর্ঘদিনের আগ্রহ: ২০২৩ সাল থেকেই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকস জোটের সদস্য হতে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। চীন ও রাশিয়া ইতোমধ্যে বাংলাদেশের এই অবস্থানকে সমর্থন দিয়েছে।
মোদি-তারেক প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এটাই হতে পারে প্রথম মুখোমুখি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সবচেয়ে বড় সুযোগ।
অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে কূটনীতি: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও চীনের শীর্ষ নেতৃত্বসহ বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে এই বহুপক্ষীয় ফোরামের ফাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পথ সুগম হতে পারে।
বাংলাদেশ ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ এবং ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস আউটরিচে অংশ নিলেও ২০২৫ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর সেশনে অংশ নেয়নি।

