চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করা দেশের গ্যাস সংকট গতকাল বৃহস্পতিবার আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিকেলে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মজুদ গ্যাস সম্পূর্ণ ফুরিয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সাগরে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে নতুন এলএনজি ট্যাংকার ভিড়তে না পারায় সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। ফলে দৈনিক ৩,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়ে মাত্র ১,৯৩০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে।
প্রচণ্ড গ্যাস সংকটের জেরে বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে ঢাকা ডিপিডিসি ও ডেসকো এলাকায় মধ্যরাত থেকে লোডশেডিং শুরু হয়েছে। অন্যদিকে পল্লী অঞ্চলে বিআরইবি-র আওতাভুক্ত এলাকাগুলোতে দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত সরকারের হাতে বিকল্প কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় ডিজেল দিয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়ে শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন খরচ লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমএবি) সভাপতি ও এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর জানান, ডিজেলের অস্বাভাবিক ব্যবহারে তাদের জ্বালানি খরচ প্রায় ৩৯০ শতাংশ বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে পোশাক প্রস্তুতকারক স্নোটেক্স গ্রুপের জ্বালানি খরচ বেড়েছে ১৫০ শতাংশ।
ব্যবসায়ী নেতারা সতর্ক করেছেন যে, জ্বালানি সংকটের অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন, যা বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ভাবমূর্তিকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।

