আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই স্থানে ও একই সময়ে তিনটি পৃথক সংগঠনের বিপরীতমুখী কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বুধবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ৬ আগস্ট একই স্থান ও সময়ে তিনটি ভিন্ন সংগঠন সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ক্যাম্পাসের ভেতরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সক্রিয় ছাত্রসংগঠনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ১টি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠান উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নেতারা।
পরবর্তীতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের তথাকথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, হামলা ও মব সন্ত্রাসের অভিযোগ এনে একই স্থান ও সময়ে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় ছাত্রদল।
অন্যদিকে, সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পৃথক বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়।
এর আগে গত ৪ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও একাধিক ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জকসু নেতাসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
ওই ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন আগে থেকেই ৫ ও ৬ আগস্ট অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। সেই ব্যবস্থারই ধারাবাহিকতায় এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাসের ভেতরে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সমাবেশ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করল প্রশাসন।

