চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় জব্দ হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একাংশ কোনো ধরনের অফিসিয়াল রেকর্ড বা এনট্রি না রেখেই অবৈধভাবে বরিশাল র্যাব-৮ কার্যালয়ে পাঠিয়েছিলেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক ও সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (ICT-1)-এ সাক্ষ্যদান ও আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরা চলাকালে এই বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন প্রসিকিউশনের ১৩ নম্বর সাক্ষী অবসরপ্রাপ্ত মেজর সাব্বির রহমান ওসমানী।
২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত র্যাব-৮-এর উপঅধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অবসরপ্রাপ্ত মেজর সাব্বির রহমান ওসমানী আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শাহিদুর রহমানের জেরার জবাবে আদালতে বলেন, “জিয়া স্যার (জিয়াউল আহসান) আমাদের অফিসে কিছু অতিরিক্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রেখেছিলেন, যার কোনো অফিশিয়াল রেকর্ড ছিল না।” পরবর্তীতে আদালতের প্রশ্নে তিনি নিশ্চিত করেন, সেসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ছিল ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা থেকে বেআইনিভাবে সরিয়ে নেওয়া অংশ।
আদালতে সাক্ষ্যদানকালে তিনি র্যাবের গোপন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোডনেম ‘গলফ অপারেশন’-এর ভীতিকর চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, কাউকে হত্যার পর পেটে পাথর বা সিমেন্টের বস্তা বেঁধে মরদেহ নদী বা সাগরে ডুবিয়ে দেওয়াকে তৎকালীন র্যাবের পরিভাষায় ‘গলফ অপারেশন’ বলা হতো।
মেজর সাব্বির জানান, র্যাবের তথ্যদাতা আলকাস মাঝি এই গোপন অপারেশনের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছেন অভিযোগ তুলে জিয়াউল আহসান তাঁকে আলকাসকে ‘হত্যা করার’ নির্দেশ দেন। প্রাণভয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানাতে পারেননি উল্লেখ করে সাক্ষী বলেন, “আমি ভয়ে প্রকাশ্যে বা গোপনে লিখিত রিপোর্ট করিনি; ভাবছিলাম জিয়াউল আহসানের নির্দেশ অমান্য করলে আলকাস মাঝির মতোই আমার পরিণতি হতো।”
সাক্ষী আরও জানান, পরবর্তীতে সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবর্তনের পর জিয়াউল আহসানের নির্দেশনায় পরিচালিত একাধিক গুম, গোপন বিচারবহির্ভূত হত্যা ও অপারেশনাল অনিয়মের বিষয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধানকে তিনি মৌখিকভাবে অবহিত করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ১০৪ জনকে গুম, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে। জিয়াউল আহসান আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

