কর্মঘণ্টায় চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা সেবা থেকে দর্শনার্থী ও সাধারণ রোগীরা যাতে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে রোগীরা যাতে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় সব ওষুধ পান—তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে প্রয়োজনে ওষুধের বাজেট বাড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নিজের প্রথম দাপ্তরিক সফরকালে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো দেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী এই সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিবগণ, বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানগণ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালকেরা।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অনেক চিকিৎসকই নির্দিষ্ট কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, আবার অনেকে হাজিরা খাতায় সই করেই ব্যক্তিগত কাজে বা প্রাইভেট চেম্বারে চলে যান। এই সংস্কৃতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব স্পষ্ট করে স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন,
“আমাদের চিকিৎসকেরা অত্যন্ত দক্ষ ও গুণী, তবে তাঁদের অবশ্যই কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে জনগণকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হবে। সিভিল সার্জন, হাসপাতালের পরিচালক এবং তদারককারী কর্মকর্তাদের ওপরই মূলত এর দায়ভার বর্তায়। কোনো কর্মী যেন ডিউটি ফাঁকি দিতে না পারেন, তা তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কোনো রোগী যেন ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে না যান—সে বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর সর্বাধিক জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলোকে ৭৫ শতাংশ ওষুধ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড’ (ইডিসিএল) থেকে এবং বাকি ২৫ শতাংশ উন্মুক্ত দরপত্রের (ওপেন টেন্ডার) মাধ্যমে কিনতে হয়। তবে ইডিসিএল-এর ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রায়ই সময়মতো ওষুধ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে। এ জটিলতা নিরসনে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ওষুধ কেনার হার বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যাতে হাসপাতালে ওষুধের সংকট না তৈরি হয়।
সভায় চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়:
জেলা হাসপাতালে ডায়ালাইসিস কেন্দ্র: উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর প্রাথমিক চিন্তা থাকলেও সম্পদ ও সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে আপাতত দেশের সব জেলা হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সুযোগ সুবিধা বাড়লে তা উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারিত হবে।
সেবা মাশুল ডিজিটালাইজেশন: হাসপাতালে সংগৃহীত সেবা মাশুলে (সার্ভিস চার্জ) স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত ডিজিটালাইজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: দেশের হাসপাতালগুলোতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

