আজ ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট। ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে টানা ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের। তীব্র আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়েন তৎকালীন সরকারপ্রধানসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ ৩৬ দিনের সংঘাত ও আন্দোলনজুড়ে সহস্রাধিক শহীদের আত্মত্যাগের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে উন্মোচিত হয় এক নতুন অধ্যায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন দ্রুতই সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকায় ছিল চরম থমথমে পরিস্থিতি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের সমস্ত বাধা ও কারফিউ উপেক্ষা করে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে আসতে শুরু করে:
‘লং মার্চ টু ঢাকা’: কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঢাকার রাজপথে ঢল নামে লাখো মানুষের।
সর্বস্তরের অংশগ্রহণ: কেবল শিক্ষার্থী বা রাজনৈতিক কর্মী নন—আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন সন্তানের নিরাপত্তার চিন্তায় উন্মুখ অভিভাবক, শহীদ পরিবারের সদস্য, শ্রমজীবী মানুষ এবং সাধারণ নাগরিকেরা। বিকেলের মধ্যেই ঢাকার রাজপথ পরিণত হয় বিশাল এক জনসমুদ্রে।
পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে একপর্যায়ে গণভবন ত্যাগ করে সামরিক বিমানে দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য পুরো দেশ উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিল সেনাপ্রধানের বক্তব্যের দিকে। দুপুর ২টায় বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও কিছুটা বিলম্বে বিকেল ৩টায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন সেনাপ্রধান। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সেনাপ্রধানের ওই ঘোষণার পরপরই রাজধানীসহ সারা দেশে বিজয় উল্লাসে ফেটে পড়ে সর্বস্তরের জনতা:
গণভবনে জনতার ঢল: আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার একটি অংশ বিজয় মিছিল নিয়ে প্রবেশ করে গণভবন প্রাঙ্গণে।
নতুন অধ্যায়ের সূচনা: রাজপথে নেমে আসা কোটি মানুষের উচ্ছ্বাসে পুরো দেশ মুখরিত হয়ে ওঠে, যা রাজনৈতিক বৈষম্য নিরসন ও নতুন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকারে এক অনন্য স্মারক হয়ে থাকে।

