আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভোটের বিষয়ে গত সোমবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক ঘোষিত সম্ভাব্য সময়সূচিটি চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে নির্বাচনের সার্বিক তারিখ ও রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইসি কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। মূলত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ইসির ঘোষিত প্রাথমিক সময়সূচি নিয়ে সরকারের অনাগ্রহ ও সমন্বয়হীনতার বার্তা আসার পর কমিশন থেকে এই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এলো।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এক বক্তব্যে জানান, সংবিধান অনুযায়ী নিরপেক্ষ ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের যে খসড়া সময়সূচি ইসি প্রকাশ করেছে, সে সম্পর্কে সরকার পূর্বে অবহিত ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরে আনুষ্ঠানিক পত্র যোগাযোগ কিংবা আলোচনা করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার ইসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছিলেন, দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদে মোট সাতটি ধাপে ভোটগ্রহণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেখানে প্রথম ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তী ধাপগুলো ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল এবং ২৭ মে সম্পন্ন করার খসড়া রূপরেখা প্রকাশ করা হলেও ইসি এখন জানাচ্ছে, তা কেবলই প্রাথমিক প্রস্তাবনা ছিল।

