আজ ২৯ জুলাই, বিশ্ব বাঘ দিবস। একদিকে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির আশাব্যাঞ্জক পরিসংখ্যান, অন্যদিকে সদ্য সুস্থ করে বনে ফেরানো বাঘিনীটির নিখোঁজ থাকার অনিশ্চয়তা—এই দুইয়ের মধ্য দিয়েই পালিত হচ্ছে দিবসটি। ঘটনাটি দেশের বন্যপ্রাণী ও বাঘ সংরক্ষণ পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বর্তমানে ১২৫টি পূর্ণবয়স্ক বাঘ ও ১৯টি শাবক রয়েছে।
ক্যামেরা ট্র্যাপে মিলছে না সাড়া
গত ১৩ জুলাই বাগেরহাটের মোংলার চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের দক্ষিণ বনাঞ্চলে দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হওয়া বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হয়। সেটির উপস্থিতি ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য বন বিভাগ ৮ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ২০টি ‘ক্যামেরা ট্র্যাপ’ স্থাপন করে। তবে অবমুক্তির দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও কোনো ক্যামেরাতেই বাঘিনীটির ছবি ধরা পড়েনি।
বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্যামেরা ট্র্যাপের পাশাপাশি নিয়মিত নৌ-টহল ও ড্রোন দিয়ে বাঘিনীটির অবস্থান শনাক্তের জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, অবমুক্তির সময় বাঘিনীটির শরীরে রেডিও কলার (Radio Collar) বা স্যাটেলাইট ট্র্যাকার যুক্ত না করায় তার নিখুঁত গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সুন্দরবনে বাঘের আনাগোনা বৃদ্ধি, তবে অধরা সেই বাঘিনী
সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বাঘের দেখা মিলছে। গত সোমবার পূর্ব বন বিভাগের কচিখালী এলাকায় একটি বাঘকে বন থেকে বের হয়ে খালে নামতে দেখেন কর্তব্যরত বনকর্মীরা।
এর ঠিক চার দিন আগে আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের বন কার্যালয়ের সন্নিকটে আরও একটি বাঘের দৃশ্যমানতা রেকর্ড করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সুন্দরবনে পর্যটন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে যে চারটি আধুনিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছিল, আন্ধারমানিক তার একটি।
তবে বন বিভাগ নিশ্চিত করেছে, সম্প্রতি যে দুটি বাঘ দেখা গেছে, তার কোনটিই অবমুক্ত করা সেই বাঘিনী নয়। গায়ের ডোরাকাটা দাগ (Stripe Pattern) বিশ্লেষণ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
“সাম্প্রতিক দেখা যাওয়া বাঘগুলোর গায়ের ডোরাকাটা দাগের সাথে অবমুক্ত করা বাঘিনীটির মিল নেই। তবে বাঘিনীটিকে বনের যে অংশে ছাড়া হয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য ও অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আমরা আশাবাদী, সেখানে নিজের স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থায় মানিয়ে নিতে তার কোনো সমস্যা হবে না।”
— দ্বীপন চন্দ্র দাস, সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ), চাঁদপাই রেঞ্জ।
বন বিভাগের বসানো ক্যামেরা ট্র্যাপগুলোতে নিখোঁজ বাঘিনীটির দেখা না মিললেও বনের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ফ্রেমে ধরা পড়েছে অন্যান্য পূর্ণবয়স্ক বাঘ, চিত্রা হরিণ, মায়াহরিণ, বনমোরগ, বন্য শূকর, মেছো বাঘ ও উদ্বিড়ালের (Otter) স্পষ্ট চিত্র।

