চার দিনের জাপান সফরের শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাপানের বিশ্বখ্যাত অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টয়োটা মোটর কর্পোরেশনের (Toyota Motor Corporation) আইচি অঞ্চলের মোতোমাচি (Motomachi) কারখানা পরিদর্শন করেছেন। সকালে টোকিও থেকে বিখ্যাত ‘শিনকানসেন’ (বুলেট ট্রেন)যোগে আইচি জেলার নাগোয়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গী দল।
কারখানায় পৌঁছালে টয়োটা মোটর কর্পোরেশনের শীর্ষ নির্বাহী ও প্রকৌশলীরা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সফরকালে তিনি টয়োটার আধুনিক উৎপাদন লাইন, রোবোটিক অ্যাসেম্বলি প্রযুক্তি এবং হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরির পরিবেশবান্ধব কৌশল প্রত্যক্ষ করেন।
১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক মোতোমাচি প্ল্যান্টে টয়োটার বিশ্বমানের ক্রাউন, মিরাই (হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল কার) ও অন্যান্য প্রিমিয়াম মডেল অ্যাসেম্বলি লাইন ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। কারখানার শীর্ষ কর্মকর্তারা তাকে টয়োটা প্রোডাকশন সিস্টেম (TPS) ও শূন্য-কার্বন নির্গমন কৌশলের ওপর ব্রিফিং প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে টয়োটার মতো বৈশ্বিক অটোমোবাইল জায়ান্টদের গবেষণা, সংযোজন প্ল্যান্ট ও যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ এশিয়ার বিকাশমান বাজারে বাংলাদেশ একটি উপযুক্ত ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
পরিদর্শন শেষে টয়োটার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তিনি। এটি ছিল তাঁর চার দিনব্যাপী দ্বিপাক্ষিক সফরের মূল কর্মসূচিগুলোর অন্যতম।
আইচি ও নাগোয়া সফর শেষে বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে সরাসরি নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। আজ ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ দূরপাল্লার বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

