রাজধানীর ভাটারা এলাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন ভাড়া দেওয়া একটি বাড়িতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এক ঝটিকা ও বিপুল মাত্রার অভিযান চালিয়েছে। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও সিসা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধারের পাশাপাশি ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এই নজিরবিহীন ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপারনিউমারারি ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরকে ক্লোজড (প্রত্যাহার করে হেডকোয়ার্টার্সে সংযুক্ত) করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক জরুরি অফিস আদেশে এই নির্দেশনা জারি করা হয় এবং তা অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আইজিপির প্রত্যাহার সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন: পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়— “পুলিশ সদর দফতরের রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি (সুপারনিউমারারি) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হলো। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।”
ডিবির টানা ১৬ ঘণ্টার অভিযান: সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত থেকে শুরু হওয়া ডিবি পুলিশের এই যৌথ অভিযান মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভাটারা আবাসিক এলাকার ওই বহুতল ভবনে পরিচালিত হয়।
বিপুল মাদক ও ২৬ নারীসহ ৮৪ আটক: অভিযানে বিভিন্ন মেয়াদী মাদক, মদ, ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও আধুনিক সিসা বার তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে গোয়েন্দারা। ঘটনাস্থল থেকে ৮৪ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ২৬ জন নারী এবং বাকিরা বিভিন্ন বয়সী পুরুষ।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভাড়া ও অপরাধের ডেরা: ডিবি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির ডুপ্লেক্স/ফ্ল্যাটটি সরাসরি অনলাইন রেন্টাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন। স্থানীয় ও অনলাইনের মাধ্যমে সংগৃহীত খদ্দেররা সেখানে নিয়মিত মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।

