সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ কল্যাণ’-কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবিকৃত বকেয়া ৬৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা আয়কর পরিশোধ করতে হবে বলে হাইকোর্টের দেওয়া সংক্ষিপ্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। এনবিআর কর্তৃক আইনানুগভাবে আরোপিত এই বিপুল পরিমাণ কর মওকুফের কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরসংবলিত ২১ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়।
কর মওকুফের আর্জি খারিজ: হাইকোর্ট তার পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করেছে, আয়কর অধ্যাদেশ অনুসারে সামাজিক বা জনকল্যাণমূলক কাজের অজুহাতে গ্রামীণ কল্যাণ আয়কর অব্যাহতি পেতে পারে না। এনবিআরের কর দাবি সংক্রান্ত আগের ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ও আইনসঙ্গত।
৬টি কর বর্ষের বকেয়া দাবি: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) গ্রামীণ কল্যাণের ২০০৩-২০০৪ থেকে ২০০৭-২০০৮ পর্যন্ত ৫টি কর বর্ষ এবং ২০১০-২০১১ অর্থ বছরের আয়করের ওপর মোট ৬৬৬ কোটি ৩৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা দাবি করেছিল। এই কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছিল।
দীর্ঘ আইনি লড়াই ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: ইতিপূর্বে দেওয়া সংক্ষিপ্ত রায়ের পর এনবিআর ও আবেদনকারী পক্ষের সকল যুক্তি পর্যালোচনা করে দুই বিচারপতির স্বাক্ষরে পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হলো। এর ফলে রাজস্ব বোর্ডের পাওনা অর্থ আদায়ে আর কোনো আইনি বাধা থাকলো না (তবে আপিল বিভাগে আবেদনের সুযোগ রয়েছে)।

