বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনো রাষ্ট্র বা জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করেনি, বরং সব সময় নিজেদের সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৮৬ সালের নির্বাচন কিংবা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন—প্রতিটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণেই দলটি জাতীয় স্বার্থের বিপরীতে নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি (TSC) মিলনায়তনে ‘জিয়া স্মৃতি পাঠাগার’ আয়োজিত কমল কুঁড়ি বিতর্ক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু:
জাতীয় স্বার্থ বনাম দলীয় স্বার্থ: রিজভী বলেন, “বিএনপি সব সময় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকারকে সবার আগে দেখেছে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের সময় গণতন্ত্র যখন বিলীন করা হয়েছিল, তখন বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের জন্য রক্ত ঝরিয়ে ও আত্মদান করে আন্দোলন চালিয়ে গেছে। পক্ষান্তরে জামায়াত কেবল তাদের দলীয় সুবিধা হিসাব করেছে।”
রেমিট্যান্স শাটডাউনের হুমকির সমালোচনা: সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত আইনি জটিলতাকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স বন্ধের (Remittance Shutdown) যে ঘোষণা বা হুমকি দেওয়া হয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি এটিকে একটি অপরাধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেন।
প্রবাসীদের ওপর রাজনৈতিক নির্দেশ চাপানোর প্রশ্ন: রিজভী প্রশ্ন তোলেন, “বিদেশে কর্মরত লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী কি কোনো নির্দিষ্ট দলের অনুসারী? সেখানে সব দল ও মতের মানুষ ছাড়াও লাখ লাখ সাধারণ অরাজনৈতিক নাগরিক রয়েছেন। কোন আইনি বা নৈতিক বলে দেশের অর্থনীতির চাকা স্তব্ধ করার জন্য রেমিট্যান্স বন্ধের কথা বলা হয়?”
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার তাগিদ: দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স প্রবাহে কোনো রাজনৈতিক বা কৃত্রিম বাধা সৃষ্টি করা দেশপ্রেমের লক্ষণ হতে পারে না বলে বিএনপির এই প্রবীণ নেতা উল্লেখ করেন।

