দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন টানাপোড়েন শেষে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বৈশ্বিক টার্মিনাল অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড (DP World)-এর সঙ্গে ১৫ বছরের জন্য আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ সরকার।
চুক্তিপত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এসা কাজিম স্ব- his নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এই চুক্তির লেনদেন-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর সংক্রান্ত মূল দিকসমূহ:
দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া ও পরিবর্তন: এনসিটিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ প্রথম ২০১৯ সালে শুরু হয়। এর আগে দীর্ঘ সময় টার্মিনালটি পরিচালনা করেছে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক। ২০২৩ সালে পিপিপি (PPP) কাঠামোর আওতায় নীতিগত অনুমোদনের পর চলতি বছর শ্রমিক অসন্তোষের কারণে প্রক্রিয়াটি সাময়িক স্থবির হলেও বর্তমান সরকারের পুনর্নবীকৃত আলোচনায় চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
এনসিটির কৌশলগত গুরুত্ব: প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটি টার্মিনালে মোট ৫টি আধুনিক জেটি রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মোট ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই এনসিটিতে অবস্থিত। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট কনটেইনার ওঠানামার ৪০ শতাংশের বেশি এনসিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা: সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় এবং কনটেইনার ডুয়েল টাইম নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাবে। এর ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানিকারকদের লজিস্টিকস খরচ অনেকটাই কমে আসবে, যা মূলত তৈরি পোশাক (RMG), প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং রপ্তানিতে নতুন প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করবে।
স্থানীয় প্রতিবাদ: অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে বন্দরের প্রধান টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছে।

