জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দীর্ঘমেয়াদী আধুনিকায়ন ও বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের পাশাপাশি ফ্রান্সের ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারবাস’ (Airbus) থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে সরকার। আগামী অক্টোবরেই এই বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এভিয়েশন খাতের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চলতি ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বড় মাপের বিমান ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ। বোয়িং ও এয়ারবাস থেকে ক্রমান্বয়ে উড়োজাহাজ সংগ্রহের সামগ্রিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
বোয়িংয়ের সাথে পূর্ববর্তী চুক্তি (৩০ এপ্রিল ২০২৬): ঢাকার অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ ও বোয়িংয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রথম চুক্তির আওতায় ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার সম্মতি হয়।
বোয়িংয়ের সাথে সাম্প্রতিক চুক্তি (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬): গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির সাথে নতুন করে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করে। এর মাধ্যমে বোয়িং ক্রয়ের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫টিতে।
এয়ারবাসের সাথে নতুন সংযোজন (অক্টোবর ২০২৬): ইউরোপীয় সমন্বয় জোরদারে ১০টি ফরাসি এয়ারবাস কেনা হচ্ছে, যার সই আগামী অক্টোবরে নির্ধারিত।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মেয়াদী রোডম্যাপের অধীনে এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের এসব উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত করা হবে। সরকারের এই মেগা-উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো:
বহর আধুনিকায়ন: বিমানের আন্তর্জাতিক রুটে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ নামানো।
আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটি: মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিরবচ্ছিন্ন সরাসরি আকাশযোগাযোগ তৈরি করা।
আঞ্চলিক হাব নির্মাণ: বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান প্যাসেঞ্জার এবং এয়ার কার্গো ট্রানজিট হাব হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে উন্নীত করা।

