দেশের পর্যটন খাতে বিগত দুই দশকে যুগান্তকারী কোনো উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়নি উল্লেখ করে এই খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান ও কৌশলগত উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর কুড়িলস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী ‘১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
বক্তব্যকালে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, “বিগত ২০ বছরে আমাদের বিশাল পর্যটন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও উল্লেখ করার মতো কাজ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার এই খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করতে চায়। এই লক্ষ্যেই কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব (International Tourism Hub) হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বিদেশি ও দেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ প্রটোকল জোরদারের পাশাপাশি অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বহুগুণ বাড়ানো হবে।
সরকারের অর্থনৈতিক প্রক্ষেপণ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান বর্তমান স্তর থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত করার সুস্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ টেনে আনতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP) ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এবারের এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের দুই শতাধিক স্বনামধন্য পর্যটন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন অংশগ্রহণ করেছে। আয়োজনে আকর্ষণীয় ট্যুর প্যাকেজ প্রদর্শনীর পাশাপাশি রয়েছে আন্তর্জাতিক ট্যুর অপারেটরদের বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) নেটওয়ার্কিং সেশন এবং বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

