বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে এবং বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে দীর্ঘ ১৪ মাসেরও বেশি সময় পর আবারও ব্যাংকগুলোর কাছে মার্কিন ডলার বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজার পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক সূত্র।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার ওপর ভিত্তি করে গতকাল সোমবার মোট ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে ১১ দশমিক ৫০ মিলিয়ন (১ কোটি ১৫ লাখ) মার্কিন ডলার বিক্রি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, আজ আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ১২৩ টাকা ২০ পয়সা। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিই দেশে আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৭.০৫ ডলারে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উপাত্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশের মোট আমদানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৬ শতাংশ বেড়ে ৬.৪৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর সিংহভাগই তেলের দাম বৃদ্ধির ফল; শুধু জুলাইয়ে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের আমদানি ব্যয়ই ৮৩.৩ শতাংশ লাফিয়ে ১.৩৭ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। একই সময়ে দেশের রপ্তানি আয় ১.৬ শতাংশ কমে ৪.৩৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নীতিতে একটি স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ করা গেল। এর আগে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় ও চাপ কমে আসায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে পরবর্তী ১৪ মাসে বাজার থেকে প্রায় ৬০০ কোটি (৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “মুদ্রাবাজারে এটি একটি নিয়মিত তদারকি ও হস্তক্ষেপ প্রক্রিয়া। চাহিদা ও হারের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।” তিনি আরও জানান, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আইএমএফের বিপিএম৬ (BPM6) হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৩৬ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৫.৬৮ বিলিয়ন ডলার।

