বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের সংকট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন ২০২৬ প্রান্তিকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায়, যার ৭২ শতাংশেরই বেশি ঘনীভূত রয়েছে মাত্র ১০টি ব্যাংকের কাছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সংকটাপন্ন শীর্ষ ১০টি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত হওয়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ (৯৮,৯১৪ কোটি টাকা) এবং বেক্সিমকো ও অ্যাননটেক্স কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক (৭৫,৭২৯ কোটি টাকা)। ইসলামী ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৫২.১৫% এবং জনতা ব্যাংকের প্রায় ৭৫% ঋণই এখন খেলাপি।
অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তালিকায় থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৭%, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৯৬%, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৭৮% এবং এক্সিম ব্যাংকের ৭১% ঋণই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও এবি ব্যাংকেও বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ জমেছে। সাবেক সরকারের সময় নাসা গ্রুপ ও বেক্সিমকো গ্রুপের মতো প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর অনিয়ন্ত্রিত ঋণ গ্রহণই এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম জানান, “বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩০ শতাংশ, যার ২০ শতাংশীয় পয়েন্টের জন্যই দায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, অনিয়ম ও দুর্নীতি। অল্প কয়েকজন বড় ঋণগ্রহীতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ঋণ বিতরণে বৈচিত্র্য আনা জরুরি।”

