অটোরিকশাচালকদের কর্মসংস্থান অক্ষুণ্ন রেখে ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে খুব দ্রুতই নতুন নীতিমালা ও বিধিমালা কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে প্রতিটি অটোরিকশায় কিউআর (QR) কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম যুক্ত করা হবে, যাতে একই রেজিস্ট্রেশন নম্বরের বিপরীতে অবৈধভাবে একাধিক রিকশা চালানোর সুযোগ না থাকে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, একইসঙ্গে যানবাহনের লেড-এসিড ব্যাটারি বাতিল করে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক রিকশা চলাচলের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলারগুলো অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখলেও এদের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার সড়ক নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিদ্যুৎ অপচয় ও রাজস্ব ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে, যা জাতীয় মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। অথচ বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে মাত্র ৩,৩০০টি। শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৪৮ হাজার অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট সচল রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার ফলে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে প্রতি বছর সরকারের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসির যৌথ পরিচালনায় অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বিচ্ছিন্ন ও যানবাহন ডাম্পিং অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

