সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে বাংলাদেশ কোনো ঝুঁকি দেখছে না। বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার আলোকে উদ্যোগটিকে একটি ‘অনন্য’ ও নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছে ঢাকা।
রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। চুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাঁচার আগে যদি মরার চিন্তা করেন, তাহলে লাভ আছে বলেন?’ তিনি জানান, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র বাহিনীর যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা মুসলিম বিশ্বেও কাজে লাগানো যেতে পারে। এ চুক্তির বিষয়ে ওআইসির বৈঠকের ফাঁকে সৌদি আরব ও তুরস্কের সাথে ইতিবাচক আলোচনা হলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র আসেনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একই সাথে চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ‘২+২’ (টু-প্লাস-টু) সংলাপ শুরুর প্রস্তুতির কথা জানান। এদিন চীনের রাষ্ট্রদূত, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, মুসলিম বিশ্বের যেকোনো সংকটে ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে রাজি ঢাকা।
প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চীনের সাথে অদূর ভবিষ্যতে ‘২+২’ (পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব নির্দেশ করে।

